জীবনের প্রত্যেক প্রবাহ অমৃত চায়।
যখনি মনে পড়ে তোমার কথা বেদনায় কুঁকড়ে যায় হৃদয় আমার
ফিরে যাই সমসাময়িক অতীতে - দেখি, এক উচ্ছ্বল যুবতী-নারী
প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ায় - এ ঘর ও ঘর; এখানে ওখানে
সমস্ত শহর অথবা সারা মাঠ জুড়ে উজ্জ্বল চেতনায় ।
আজ তুমি শুয়ে আছো - শান্ত এক মেয়ের মতোন
হাসপাতালের কঠিন শয্যায় একাকী ;
তোমার চারিপাশে ভীড় নেই আত্মীয়-স্বজন-সুজনের কোনো,
কী এক অদ্ভুত বিচিত্রতা আমাদের মাঝে ক্রিয়াশীল !
আমরা জানি- তুমি চলেছো ক্রমশ: দূরে- অন্য কোনো দেশে
যেখানে যাওয়া যায় শুধু , ফিরে আসা যায় না সময়ের বিবর্তনে;
শান্ত-শীতল দেহ নেতিয়ে পড়ছে ক্রমশ: শঙ্কার ভেতরে -
এক উজ্জ্বল প্রভা ধীর গতিতে প্রবেশ করছে কৃষ্ণগহ্বরে।
শীলা ! আমরা মনে রাখবো তোমায় অনেক, অনেক দিন,
মনে রাখবো এই বলে - আহারে ! কী কষ্টকর জীবন,
জীবনের ভেতর রেখে গেলো কষ্টের বীজানু-
আমাদের সামনেই ঝরে গেলো এক উল্কার ন্যায়
ঝাকড়া চুলের সুন্দর মহিমাময় উচ্ছ্বল উজ্জ্বলতা -
বেদনার এক কঠিন আস্তরন ছড়িয়ে চারিপাশ।
( আমার এক আত্মীয়া আফরোজা আক্তার শীলা অনেক দিন যাবৎ মষ্তিষ্ক ক্যান্সারে আক্রান্ত।
চিকিৎসার ত্রুটি করা হয় নি। সুচিকিৎসার জন্য একাধিকবার থাইল্যান্ড, ভারত নেয়া হয়েছিল। দু'বার অপারেশন করা হয়েছে; কিন্তু ক্রমশ: সে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজ প্রায় ছয় মাস যাবৎ সে শয্যা-শায়ী। একটু আরামের জন্য দু'দিন আগে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ 'চিকিৎসার উর্ধ্বে' বলে আজ তাকে বাসায় পাঠায়ে দিয়েছে।
মুখে খাবার খেতে পারছে না, এখন তাকে এনেস্থিয়া ( অচেতন) করে নাক দিয়ে নল ঢুকানো হয়েছে। তা দিয়ে শুধুমাত্র তরল খাবার দেয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, শীলা এক সময় ' ভোরের কাগজ' , 'জণকণ্ঠ' এর সাংবাদিক ছিলেন। ঐ দু'টি পত্রিকায় 'নারী' , 'নারী নির্যাতন' , ' নারীর সাফল্য' ইত্যাদি আলেখ্যে বহু ফিচার/প্রবন্ধ আছে। তাঁকে উদ্দেশ্য করে আমার এ পংতিমালার প্রয়াস।
)
২৬/১১/২০১১ ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।