হাতছানি দেয় দূরে কেউ আমারে
আজকাল ১৫০০-২০০০ টাকা মধ্যেই চাইনা মোবাইর পাওয়া যায়। এজন্য যে এখনো ঠিকভাবে বাথরুম করতে শেখেনি তার কাছে পর্যন্ত মোবাইল। এখনি যদি এ অবস্থা হয় তাহলে সামনে কি হবে??
মোবাইলের প্রভাব: মোবাইলটা মানুষের কাছে আজকাল প্রেমিক কিংবা বউ এর মত হয়ে গেছে। ২মিনিট তাকে ছেড়ে থাকতে মন চাই না। যাদের মাথার ল্যালপা (আঞ্চলিক শব্দ) এখন পর্যন্ত পরে নাই তারা পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে।
ছোট ছোট পিচ্চিরা এসে পর্নোভিডিও চাই মোবাইলের দোকান থেকে। আর এখকার কম্পিউটার মোবাইল দোকানগুলো টাকার সাথে সর্ম্পক। তাদের মধ্যে বিবেক কিংবা হিউম্যনিটি বলতে কিছুই নেই। যাই যেটা চাই বয়স এর দরকার নেই টাকা হলেই হল দিয়ে দেয়!!!!! আর বাবা মাই বা কেমন হয়ে গেছে, সন্তান জেদ ধরলেই লেটেষ্ট মোবাইল কিনে দেয়, যাতে পর্নোভিডিও দেখতে সুবিধা হয়। এখন কার মোবাইলগুলো গান থাক না থাক পর্নোভিডিও থাকা চাই।
এক পিচ্চি এসেছিল আমাদের দোকানে... সবার সামনে...
পিচ্চি- ভাই নেকেট থ্রিএক্স আছে!
না ভাইয়া,
কেন নাই
মেজাজটা একটু খারাপ হয়ে গেল!! আমি বললাম
তুমি এত ছোট বয়সে এসব নিচ্ছু!
আর এক পিচ্চি ওকে বলছে. চল চল অন্য দোকানে যায়!!!!
তাহলে চিন্তা করুন! আপনি দিচ্ছেন না কিন্তু অন্য জন...........।
ডিজিটাল লজ্জা সরমঃ সরম লজ্জাও আজকাল ডিজিটালের সাথে তাল মিলে চলছে। আগে কাপড় আপাদমস্তক পর্যন্ত থাকতো, এখন কোথাও ফাটা, কোথাও চেইন, কোথাও টাইট ফিটিং বিভিন্ন রকমের! লজ্জা সরম যেন কাপর ফেটে বেরে হয়ে আসতে চাচ্ছে। মেয়েরা যেন তাদের বুকের মাংসপিন্ডগুলো (একটু খারাপ ভাষা হয়ে গেল, সরি) দেখানোর উৎসুক হয়ে আছে, তাদের কাপড় দেখলে তাই মনে হয়। হিন্দি সিরিয়াল কিংবা আসেপাশের পরিবেশ দেখে তারা তাদের তাদের যৌবনতা বিভিন্ন রকম ভাবে প্রকাশ করছে।
আজকাল বউজিরা মাথাই কাপড়ই দেয় না! তাদের দেখলে মনে হয় কেবল তারা যৌবনতা ফেরত পেয়েছে!!! এখনি যদি লজ্জা সরমের এ অবস্থা হয় তাহলে ভবিষ্যতে ............!
খেলাধূলাঃ আগে আমরা বিভিন্ন খেলা ধূলা করছি, হাডুডু, দাড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুট সহ বিভিন্ন রকম। এখনকার ছেলেমেয়ে অনেকে ওসব নামই জানে না। খেলা কথা ওঠতেই একদিন একছেলে আমাকে বলে
ভাইয়া আপনারা তো হাডুডু, ফুটবল খেলেছেন, আমরা এখন মেয়ে, মদ, কম্পিউটার এবং মোবাইল নিয়ে খেলি।
মেয়ে নিয়ে খেলা তো বুঝলাম না! (না বোঝার ভান করে বোকার মত প্রশ্ন করলাম)
ভাইয়া, ওর বাসাই যখন কেউ না থাকে তখন আমাকে ফোন দের ওদের বাসায় যাওয়ার জন্য! তারপর আপনি বুঝতেই পারছেন!!!
তাদের যদি এখন এ অবস্থা হয় তাহলে..................... কি হবে?
বৈবাহিক অব্স্থাঃ বৈবাহিক জীবনে ডিজিটালের প্রভাব পরেছে। এখন আগে সেক্স তারপর প্রেম শেষে কোন উপায় না থাকলে বিয়ে।
বিয়ের ৩-৪ মাস পর ডিভোর্স হয় যায় কোন না কোন কারনে। আমার মতে সবচেয়ে বেশী ডিভোর্সের কারন হয় পরকীয়া। পরকীয়া টা খুব বেশী আমাদের সমাজে প্রভাব ফেলছে। ইন্ডিয়ান চ্যানেলের সিরিয়াল দেখে দেখে সবার যেন মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে। তারা পরকীয়ার দিকে আর্কষিত হচ্ছে বেশী!
জানি আমরা এসব কোন কিছুই আর পরিবর্তন করতে পারবো না! ধরা পরা চোরকে সবাই মিলে যেরকম কষাঘাত করে, তার কিছুই করার ক্ষমতা থাকে না! শুধু লাঞ্চনা আর কষাঘাতে বসে থাকতে হয়।
আমাদের অবস্থাও তেমনী! চোরের কষাঘাত খাওয়া ক্ষতবিক্ষত দেহ থেকে মাঝে মাঝে গোঙ্গানী আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই বের হয় না, আমাদেরও এরকমি হয়েছে।
চলবে
ডিজিটাল জীবন
পরকীয়ার প্রভাব
পর্নোভিডিও প্রভাব
১০-১৬ বছরের মেয়েদের স্বভাব
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।