"ব্লগকে সিরিয়াসলি নেবার কিছু নেই"...গরীব স্ক্রীপ্ট রাইটার
১
ভাইয়াআআ...ভাইয়াআআ...দরজা খোল...আমাকে আমার ভালবাসার কাছে যেতে দে.....
কিছুক্ষণ দরজায় হাত দিয়ে চাপড়াতে চাপড়াতে আবার দু’কদম পিছনে সরে যেয়ে বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে আবার শুরু করল, তুই ভাই হয়ে বোনের এমন সর্বনাশ করিস না...আমাকে ওর কাছে যেতে দে...তোর আল্লার দোহাই লাগে....ই আল্লা.... (একটু ছুটে গিয়ে বিছানায় বসে পড়ে কাদতে লাগল বেলি (ব্লগার জয়িতা)
২
চোরের মত বেলিদের গেট দিয়ে ঢুকলো রাশু...খুব সাবধানে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে কেউ বিশেষ করে বিষু আছে কিনা দেখতে দেখতে সামনের পেয়ারা গাছ থেকে একটা পেয়ারা ছিড়ে পকেটে ভরলো। তারপর নিঃশব্দে বেলির দরজার কাছে যেয়ে দরজার নিচ থেকে শুয়ে পড়ে ঘরের মধ্যে কিছু দেখার চেষ্টা করল কিন্তু পারলো না তারপর হাফ প্যান্টের পকেট থেকে চিঠিটা বের করল।
ফিসফিস করে রাশু বলল, কি আছেন নেকি! ফুডা দিয়ে কি চিডিডা দিমু?
আবার নিচু হয়ে ফুটা দিয়ে দেখার চেষ্টা করল.....তারপর নিচু হয়ে দরজার নিচ থেকে চিঠিটা অর্ধেক ঢুকানোর সময় তার গেঞ্জির কলারে টান অনুভব করল। পিছন ফিরে দেখল, বিষুর অগ্নিমূর্তি।
বিষু প্রথমে চিঠিটা হাতে নিল তারপর কলার ধরে টানতে টানতে গেটের কাছে নিয়ে যাচ্ছিল গলাধাক্কা দেয়ার জন্য।
রাশু উত্তেজিত হয়ে: ওই ওই গুনজি বইল্যা(বড়) যাইতেছে......গুনজি ছারেন...ছারেন.....
বিষু ওর কথায় কর্ণপাত না করে আরও জোরে গেঞ্জি টেনে ধরলো আর গালে দুইটা ঠাস ঠাস করে থাপ্পড় দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল রাশুকে।
৩
চিকন গান গাইছে: আমার ভালোবাসা সত্যি যদি হয়....তোমাকে ফিরে আসতে হবে....প্রেমের কারণে তোমাকে ফিরে আসতে হবে........
রাশু: থামেন মিয়া, আমার গুনজির ট্যাকা দেন.....
চিকন: কির লেইগ্যা!
রাশু: হের ভাই আমার গুনজি বলাইয়া দিছে....
চিকন: কিতা হইছে রে......
রাশু: আমারে দুইটা চোপাড় দিছে হের ভাই......
চিকন: চিডি কি দেতে পারছোস?
রাশু: কইলাম না চিডিডা লইয়া হের ভাই কান পাচায় দুইডা চোপাড় দিছে।
এই কথা শোনা মাত্র চিকনমিয়া রাশুর গালে আরও দুইটা থাপ্পড় মেরে বলল, দূরে গিয়া মর। এত অপমাণীর পরও এতক্ষণ ১০/১১ বছর বয়সের বালক রাশু কাঁদেনি কিন্তু এবার সে সত্যি সত্যিই কেঁদে ফেললো।
৪
রাশু যে চিঠিটা দিতে আসছিল বেলিকে, চিকনের লেখা সেই চিঠিটা বিষু খাম থেকে খুললো।
চিঠিটা ছিল এরকম:
মায়া লাগাইছো
পিরিতি শেখাইছো
দিওয়ানা বানাইছো
কি যাদু করিয়া বেলি মায়া লাগাইছো
বসে আছি নিরালায়
আগে তো জানিনা বেলির পিরিতের জ্বালায়
আরে ফেলান থুয়া বিড়িতে আগুন ধরাইয়া দিছো
আমি কি বলিব আর
বিচ্ছিদের আগুনে পুড়ে
কলিজায় আঘাত.........
চিঠিটা মুখে পুরে চিবাতে চিবাতে বিষু বলল: ছি: কি সব নোংরা কথাবার্তা এগুলা।
অনেকক্ষণ কোন সাড়া শব্দ শুনতে পেয়ে বেলি বড়ভাই বিষু দরজা খুলে দেখতে গেল বেলি বাথরুমের দরজা দিয়ে পালালো কি না (অনেক সিনেমায় সে দেখেছে এভাবে মেয়েরা তাদের প্রেমিকের সাথে পালায়)। দরজা খুলে দেখল বেলি আয়নার সামনে.....বিষুকে দেখে অপ্রস্তুত হয়ে গেল বেলি...... এমন মুহূর্তে সে আয়না দেখতেও ভুলে নাই...বিষু আবার দরজা আটকে দিল।
বিষু ভেবেছিল বেলি অনেক উল্টাপাল্টা কাজ করতে পারে কিন্তু আয়না দেখছে মানে স্বাভাবিক ব্যাপার, তাহলে আজকে ছেলের মামাকে ফোন করে আসতে বলা যায়।
৫
আইরিন: আপনি কি মানুষ!
আইরিনের কথা শুনে বিষু পিছন ফিরে দাড়াল তারপর চোখ মুছতে মুছতে বললো : তুমি আমাকে যাই বলো না ক্যানো বোন, আমি আজ অসহায়....বেলি যা করছে, তাতে আমি সমাজের কারও কাছে মুখ দেখাতে পারছি না........আজকে বাজার করতে যাইনি......ওদিকে আজকে এক ছেলে বেলিকে দেখতে আসছে......
আইরিন: দরজা আটকিয়ে যে ভালোবাসাকে আপনি বেঁধে রাখতে চাচ্ছেন, বিয়ে দিয়ে যে ভালোবাসার আপনি ফাসি দিতে চাচ্ছেন----তা কি এতই সহজ!!
বিষু দার্শনিক ভঙ্গিতে বলল: সহজ কিনা কঠিন আমি জানিনা.......আজ আমি অসহায়, আজ আমি নিরূপায়........আমাকে প্লিজ একা থাকতে দাও...উহ্!
আইরিন: কি হলো?
বিষু: বুকটা কেমন করে উঠল.......
আইরিন এই সময় একটু চালবাজি করে বলল: ঠিক আছে ভাইয়া আমি বেলিকে বুঝাচ্ছি......আমিই ওকে ছেলে পক্ষের কাছে নিয়ে যাচ্ছি..........
৬
আইরিন: শোন তোকে আজকেই পালাতে হবে।
ছেলেপক্ষের সামনে যাওয়ার জন্য রেডি হবি কিন্তু চিকন মোটর সাইকেল নিয়ে দাড়িয়ে থাকবে তখন তুই ওর সাথে চলে যাবি।
বেলি: কিন্তু......
আইরিন: কোন কিন্তু না যা বলছি তাই কর।
এরপর বেলি আইরিনের গলা ধরে কাঁদতে লাগলো।
(বাংলা সিনেমার নিয়মানুযায়ী নায়িকার বান্ধবী যেসব ঐতিহাসিক ডায়ালগ দিয়ে থাকে আইরিনও তাই করলো)
বিজ্ঞাপন বিরতি:
চিকু বাড়িতে আসার গেস্টকে বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করছে
চিকুর মা: চিকু......এ্যাই চিকু দুষ্টামি হচ্ছে....
চিকুর মা চিকুকে মারার জন্য খুজতে গেল
চিকু গেস্টের কাছে এসে বলল: আঙ্কেল তোমার কাছে ৩টা টাকা হবে? প্রাণ জুনিয়র ক্র্যাকার্স খাবো
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।