আমি এমন এক সাধারন মানুষ হতে চাই যে অসাধারন হবার পেছনে দৌঁড়ায়না এবং বিনা প্রশ্নে কিছু গ্রহন করেনা ।
গুলশান ১ নম্বরের রাস্তা এখন সম্পুর্ণই শুনশান । এই সময়ে তেমনই হবার কথা । দুই - একটা প্রাইভেট কার আপন মনে ছুটে চলেছে যার যার গন্তব্যে । যদিও তা নিয়ে টেনশন করবার কিছু নেই ।
কার বাপের সাধ্য আছে তাদের ছোঁয় ? গরমটাই কেবল সহ্য হচ্ছেনা । এই গরম বাতাসে কালো পোশাকে সারাদিন ঘুরতে থাকাটা অভিশাপের মতো মনে হয় । তবু এখন কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছে । আসলে একটা টার্গেটেড কেসকে ছয় মাস পর আজ ঘন্টা দুয়েক আগে পাকড়াও করা গেছে । ইনফো বিশেষ বের করা যায়নি ।
উপর থেকে অর্ডার এসেছে মালটাকে খতম করবার । র্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন ৩ শাখার এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর রহমান কালো পট্টি খুলে কপালের ঘাম মুছলো । ৩ জনে মিলে কিছু দূর থেকে বাঞ্চোতটাকে আনতে গেছে । একশন শেষ করেই কোন বার টারে বসে মাল খেতে বসবে । হাতঘড়িতে টাইম দেখে নেয় রহমান , এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর অব র্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন ব্রাঞ্চ নাম্বার ৩ ।
কিভাবে কোত্থেকে ভুলটা হয়ে গেলো বুঝতে পারেনি । অনেক হিসাব - নিকাশ করেই জায়গাটায় এসেছিলো । কিছু কাগজ হ্যান্ডওভার করাটা জরুরী ছিলো । সেগুলো যথাস্থানে পৌঁছে দিয়েই ফিরতি বাসে করে রাজশাহী চলে যাবার কথা ছিলো । সেখানে বশীর নতুন কি এক ঝামেলা পাকিয়েছে বলে খবর শুনেছে ।
সে দ্রুত গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতো । রোমেল বুঝতে পারছেনা যার কাছে কাগজগুলো পৌঁছে দিতে গিয়েছিলো সেই আগে ফোন করে তাকে ধরিয়ে দিয়েছে কিনা । কাগজগুলো নেওয়ার সময় কেমন করে তাকাচ্ছিলো । একটা অপরাধী অপরাধী ভাব ছিলো বলে মনে করতে পারে । যাক গে এখন আর অত ভেবে কি হবে ? অনিবার্য যেই মুহূর্ত একসময় আসবে বলে বছর পাঁচেক ধরে প্রতিটি সময় মাথায় রেখেছে সেই মুহূর্তই অবশেষে এক অসতর্ক প্রহরে চলে আসলো ।
ঠোঁট চাটতে গিয়ে রক্তের নোনতা স্বাদ টের পেলো । শালারা মারবি তো এমনিতেই শুট করে কেস ডিসমিস করে দে । নাকে মুখে মারের নামে এতো খোচাখুচির কি আছে ? হাত , পা , কবজি , হাঁটু , নাক , মুখ , চোখ খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে না মারলে আজকাল কি কেউ তাকে কিলিং বলেনা ?
সামনেই এক ডাস্টবিন থেকে এক কুকুরকে খাবার খুঁজতে দেখলো । মনে মনে চিন্তা করলো এই পোড়া শহরেই ঠিক কতজন এই কুকুরটার মতো খাবার খুঁজতে এভাবে হন্যে হয়ে ঘুরে । এস্টিমেটেড যেই নাম্বারটা ক্যালকুলেট করলো তাতে আরেকবার ঘেন্না চলে চলো সবকিছুর প্রতি ।
সময় শেষ হয়ে আসছে । ঘেন্না করবার সুযোগটাও আর মিলবেনা কিছুক্ষণ পর । একেবারে অ আ ক খ ধরণের কিছু প্রশ্ন এসে মনের মধ্যে উঁকি দিতে শুরু করলো । আচ্ছা কয়জনে বুঝে এভাবে বিনা বিচারে কুকুর বেড়ালের মতো মানুষ মারা যায়না ? যেতে পারেনা ? সময় কি এতই বিবশ , মানুষের মগজ়ে কি এতোটাই ঘুণ ধরেছে যে এসব কোন প্রশ্ন কারো মনে রেখাপাত করেনা ? তবে এতো হাইরাইজ বিল্ডিং , মর্ডান হাইওয়ে , ওভারব্রীজ সংবলিত শহরে কারা থাকে ? কেন থাকে ? এদের কেউই কি ঠাহর করতে পারেনা এরা কতটা কূপমন্ডুক ? হিরা বুঝতে পারে অন্তিম সময়ে সে দুর্বল হয়ে পড়ছে । তবুও সে নিজেকে থামাতে চেষ্টা করলোনা ।
এই প্রশ্নগুলো কি এতোটাই ঠুনকো যার জবাব খুঁজতে নেই । আচমকাই পিছে থেকে ২জন এসে ধাক্কা দিলো । হাত দুটো বাঁধাই আছে তবু এই ধাক্কা দেওয়ার মানে কি ? স্পষ্ট উচ্চারণে শুয়োরের বাচ্চা শব্দদুটি বললো হিরা । সে জানে সে এখন এসব ব্যবহার করতে পারে । শেষ সময়ে অন্তত ক্ষোভ কিছুটা ঝাড়তে পারলো ।
হাত বাঁধা , চোখে কাপড় বাঁধা হিরাকে সামনে আনা হলে মেমোরী বছর বারো আগে নিয়ে গেলো রহমানকে । নিজের পেশাদার পরিচয়ের সাথে কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতি কোলাইড করে গেলো মিনিট দুয়েক । বারো বছর আগের বাচ্চা এক ছেলে হিরা , তার মাধ্যমে তার বড় বোন ময়নাকে প্রেমের চিঠি পাঠাতো রোজ । চিঠি দেওয়া নেওয়া করতে করতে হিরাকেও আপন করে নিয়েছিলো বেশ । কেবল ময়নার বাবা হাশেম মানলোনা ।
এক পাগলপারা অসচেতন দুপুরে ময়নার বাসায় গোপনে দুইজনের অন্তরঙ্গ একটি ঘন্টা । অতঃপর লোক জানাজানি , ময়নার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়া । তার শহরে চলে আসা , অজস্র চড়াই - উৎরাই পেরিয়ে আজকে এই অবস্থানে । রহমান ধাতস্থ হয় অবশেষে । চাকরীতে ঢোকার তৃতীয় কি চতুর্থ দিন শুনেছিলো " সেন্টিমেন্ট ইজ ডেট্রিমেন্টাল ফর দিস ভেরী জব ।
কিপ ইয়োর সেন্টিমেন্ট ভেরী সিক্রেট এন্ড ইউ উড বি রিওয়ার্ডেড হ্যান্ডসামলী । " কথাগুলো স্মরণ করে ট্রিগারে চাপ দিতে বললো সাব - অর্ডিনেটদের । হিরার লাশ বেঁকে চুরে নর্দমার কোনার কাছে গিয়ে পড়লো । তার শরীরের কাছে গেলেই গান পাউডারের গন্ধ পাওয়া যাবে এখন ।
শেষ মুহূর্তে হিরার বিস্ফোরিত চোখের কথা ভুলে যেতে যেতে এসিস্টেন্ট ডিরেক্টর অব র্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ন ৩ এর রহমান চিন্তা করে এই সময়ে ঠিক কোন বারে গলা পর্যন্ত মদ গিলতে পারলে তার ভালো লাগবে ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।