আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এ জন্য মাঠে নেমে পড়েছেন পার্টির প্রার্থীরা। উপজেলা নির্বাচন অরাজনৈতিক হলেও ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে গত ২২ ও ২৩ জানুয়ারি এরশাদের বনানীর কার্যালয়ে থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়েছে। আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য তিন হাজার এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই হাজার টাকা গুনতে হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ৩৫টি জেলার ১০২টি উপজেলায় নির্বাচনের জন্য গতকাল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে দাখিল করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।
আগামীকাল যাচাই-বাছাই হবে এ প্রার্থীদের। এর পর প্রার্থীদের পার্টির মনোনয়ন দেওয়া হবে। জানতে চাইলে এরশাদের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভ রায় বলেন, জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বনানীর কার্যালয় থেকে আবেদন ফরম বিক্রি করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে অনেকে দলীয় আবেদন ফরম কিনতে পারেননি।
যারা মনোনয়ন কিনতে পারেননি তাদের বলা হয়েছে, সরকারি মনোনয়ন যথাসময়ে সাবমিট করতে। পরে সময় বুঝে পছন্দের প্রার্থীকে দলের সমর্থন জানিয়ে দেওয়া হবে। জানা যায়, আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এবার নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে জাতীয় পার্টি। সময় স্বল্পতার অজুহাতে দলীয় মনোনয়ন ও কোনো রকম সাক্ষাৎকার ছাড়াই দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত মনোনয়ন বিক্রিতে আশানুরূপ সাড়া না পাওয়া এবং মনোনয়ন বাণিজ্য করতেই দলটি এ কৌশল অবলম্বন করছে।
সবকটি উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। সে অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন ফরমও বিক্রি করেছে। জাপার নীতিনির্ধারকরা মনে করেছিল দলের চেয়ারম্যানের সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়া যাবে এই বিবেচনায় অনেক নেতা উপজেলা নির্বাচনে জাপা দলীয় প্রার্থী হয়ে লড়তে ফরম কিনতে যাবেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। বুধবার প্রথম দিনে ২০টি ফরম বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার শেষ দিনসহ দুই দিনে মোট কতটি ফরম বিক্রি হয়েছে তা জানায়নি দলের দায়িত্বশীল কোনো মহল।
দলীয় মনোনয়ন ও কোনো ধরনের সাক্ষাৎকার ছাড়াই সরকারি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাপা সমর্থিত প্রার্থীদের। বৃহস্পতিবার জাপা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। এতে সময় স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে বলা হয়, 'আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যেসব প্রার্থী জাতীয় পার্টির সমর্থন প্রত্যাশা করেন, তাদের সবাইকে যথাসময়ে রিটার্নিং অফিসারের বরাবরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য দলীয়ভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, 'সময়ের স্বল্পতার কারণে আসন্ন ১০২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থনপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ সম্ভব হলো না। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর জাতীয় পার্টির জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট প্রার্থীর প্রতি দলীয় সমর্থন ঘোষণা করা হবে।
যেসব প্রার্থী দলীয় সমর্থন লাভ করবেন না, তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। উপজেলা নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থনে একক প্রার্থী থাকবেন। পার্টির সমর্থন ব্যতীত দলীয় কোনো প্রার্থীকে উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার জন্য জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, মূলত এখন একদিকে কম সংখ্যক নেতা উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে এত কম সংখ্যক মনোনয়নপ্রতাশী নেতা ফরম নেওয়ায় মনোনয়ন বাণিজ্যেরও সুযোগ থাকছে না।
তাই কৌশল হিসেবে বলা হচ্ছে, যারাই এখন মনোনয়ন সাবমিট করে দলের সমর্থন চাইবে পরবর্তীতে সময়-সুযোগ করে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যাকে দলের নিবেদিত নেতা মনে করা হবে তাকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে। বাকিরা জাপার সমর্থন পাবে না। ফলে জাপার সমর্থনপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রে ধরনা দেবে নেতাদের কাছে। এ সুযোগে প্রার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হবে মোটা অংকের টাকা।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।