বা
আমার লেখা লোকে তেমন পড়ে না তাই একটা নজর কার শিরোনাম দিয়েছিলম। একটি সিনেমা সিনেমা প্রেম কাহিনী: ভাল লাগার ১০০% গ্যারান্টি বিফলে জরিমানা সহ পয়সা ফেরত। আর এতে লেখাটি অনেকের দৃষ্টি কেড়েছিল কিন্তু অনেক গুলো মাইনাস পেলাম। তাই আবার পোষ্ট দিলাম, এবার অল্প অল্প করে । হয়ত আরো কিছু মাইনাস পাবো এই প্রত্যাশায়।
ওরা সুখের লাগি চাহে প্রেম
ফকির আবদুল মালেক
১.
ব্যাক্তিগত পরিচয়ের সুত্র ধরে একজন পত্রিকার রিপোর্টারের সাথে, যার দু’টি ফ্রি-পাস ছিল, কয়েকদিন আগে একটি সঙ্গীত সন্ধ্যা উপভোগের সুযোগ পাই।
চল্লিশের কাছাকাছি বয়স, উজ্জ্বল চেহারা, জ্বল-জ্বল করে জ্বলতে থাকা দৃষ্টিনন্দন চোখ, ঝাকড়া-লম্বা চুলের বর্তমান সময়ের আলোচিত একজন শিল্পী তার নিজস্ব ঢং-এ সঙ্গীত পরিবেশন করছিল। একটি পাশ্চাত্য ক্লাসিক সুর আর মিউজিক কম্পোজিশনের চমৎকার মাধুর্যতায় সমস্ত অর্ডিয়েন্স স্তম্ভিত মুগ্ধতার স্থবির হয়ে আছে।
“একটি গল্প আছে এই লোকের,” রিপোর্টার বলছিল,“পত্রিকা থেকে এই শিল্পীর উপর একটি ফিচার তৈরী করার নির্দেশ পাই। সঙ্গীত নিয়ে তিনি এক ধরনের পরীক্ষায় নেমেছেন।
পশ্চিমের ক্লাসিক ধারার গানের মুল থিমটি আয়ত্বে এনে তিনি বাংলা গানে তার প্রয়োগ করছেন। বলার অপেক্ষা কি, তিনি সফলতা পাচ্ছেন। আমি তার বাড়ি যাই, তার জীবনের ঘটনাটি আমাকে বিস্মিত করে। তুমি তো জানো বর্তমানে হাসির নাটকের কি কদর টিভিতে। সিরিয়াস কোন নাটকই এখন আর পাবলিক খাচ্ছে না।
এখন আমি একটি হাসির সিরিয়াল করছি, তুমি জান। না হলে তাদের জীবন নিয়ে একটা নাটক হতে পারত। তুমিতো ট্রেজেডি গল্প লিখ, হয়ত কোন গল্পের ক্লু খুজে পেতে পারো। আমি তোমাকে
বিস্তারিত বলব। ”
সেই সন্ধ্যার পর আমার বন্ধু, পত্রিকার রিপোর্টার কাম টিভি’র কামিক সিরিজ কাহিনীকার আমাকে বিস্তারিত বলে।
“আমি কোন কারন খুজে পাই না” বলি আমি, যখন সে উপসংহারে চলে আসে, “ কেন তা একটি কৌতুকপূর্ণ কাহিনী হবে না! ঐ তিনজন কোন অবস্থাতেই এতটা উদ্ভট, অয়ৌক্তিক চরিত্রে এত সুন্দর অভিনয় করতে পারত না, যদি তারা সত্যিকারের নামী দামী অভিনেতা হতেন। আমি সত্যি ভয় পাই, মনে হয়, যেভাবেই হোক পৃথিবীটা একটা মঞ্চ আর সমস্ত নর-নারী এক একজন দক্ষ কমেডি অভিনেতা। এটা সত্যি একটা প্রাকৃতিক প্রহসন হবে। ”
“চেষ্টা করে দ্যাখো... ” বন্ধু বলে।
২.
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার রোডে বাড়িটি অবস্থিত।
গত পঁচিশ বছর যাবৎ এর নিচ তলায় একটি বেশ বড় শো-রুম দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য নিয়ে চলে আসছে যেখানে নানা ধরনের বুটিকস্ এর পোশাক বিক্রি করা হয়।
বিশ বছর আগে খুব সাদামাটা বিয়ের অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয় এই শো-রুমটির উপরের তলায়। বিধবা তাহমিনা বাড়িটি ও শো-রুমের মালিক। তার কন্যা হেলেন ও বাশেদুল বারী রাশেদ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তানভীর আহমেদ তুহিন এক প্রাণবন্ত যুবক, ব্যবহারে, সৌন্দর্যে আর অর্থবিত্তে, সমস্ত অনুষ্ঠানটি অলোকিত করে রাখে নানা কৌতুকে।
হেলেন তখন আঠার, শহরে শিক্ষিতা, কন্ঠশিল্পী আর সুন্দরী হিসাবে যার সুনাম ছড়িয়ে পরেছিল।
রাসেদ ও তুহিন দুজ’ন ঘনিষ্ট বন্ধু যারা একটি নাট্যদল ও সঙ্গীত একাডেমী প্রতিষ্ঠা করে বেশ সুনাম অর্জন করে। দুহাতে পয়সা খরচ করে তারা যে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। এই গল্পের মজার দিকটি এখান থেকেই শুরু। দুজনেই হেলেনের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছিল।
যখন রাশেদ জয়ী হয়ে যায়, তুহিন তাকে স্বাগত জানায়, বুকে জড়িয়ে ধরে ক্লেশহীন ভাবে।
বিয়ের পর পরই নব-দম্পতি পাহাড়ের দিকে খুব সম্ভবত: বান্দরবনের দিকে চলে যায় যেন তারা ভ্রমনের পোষাকেই বিয়ে করে। একদিন রাশেদ একটু বাইরে গেছে, কি যে পাগল লোকটা আদিবাসীদের সাথে কথা বলতে গেছে, ওদিকে হেলেন আজ সেজেছে দারুন করে, একটা পাহাড়ী ফুল চুলে গুজিয়ে দিয়েছে , একটু যত্ন করে পরিচ্ছন্ন হয়ে রাসেদের জন্য অপেক্ষা করছে। এমন সময় হঠাৎ আগ্নেয়গিরির মতো জ্বলতে জ্বলতে তুহিন কটেজে প্রবেশ করে, সে ছিল উদভ্রান্ত, চোখদু’টি সিদুরের মতো লাল ছিল তার, সে পাগলের আচরণ করছিল, চিৎকার চেচামেটি করে এই নিরব প্রকৃতিকে বাজারে পরিনত করে তুলেছিল, বলছিল,“ আমি সব হারিয়ে ফেলেছি, হেলেন, আমি তোমাকে ছাড়া নি:স্ব একা। এসো আমরা অন্য কোথাও চলে যাই, আমি তোমাকে ছাড়া বাচব না”
৩.
হেলেন ভয়ে পাংশু ছিল।
ক্রোধে তার চোখ দুটি জ্বলছিল, একরাশ ঘৃণা নিয়ে বলেছিল ‘ভদ্রেলোকের মতো’ কথা বলতে। কিছুক্ষণের ভিতর সে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করে নেয়। সে বিনম্র আচরণ করে, তুহিনের ছেলেমানুষি আচরণের ভিতর গহীন ভালবাসা দেখতে পায় আর বলে যে, “ তোমার হৃদয় নিসৃত আবেগ আমার স্মৃতিতে সারাজীবনের কান্না হয়ে থাকবে” এবং দ্রুত তাকে চলে যেতে বলে।
“আমি চলে যাব” তুহিন বলে,“ পৃথিবীর অন্য প্রান্তে । আমি কিছুতেই থাকব না যেখানে তুমি অন্য কারো হবে।
আমি অন্য কোথাও চলে যাব আন্য কোন পরিবেশে অন্য জীবন খুজে নিব, কিন্তু তোমাকে কোনদিন ভুলে যেতে পারব না” বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
“খোদার দোহাই তোমার” হেলেন বলে, “কেউ হয়ত এদিকটায় আসছে। ” তারপর নাটকীয়ভাবে হাটুর উপর বর দিয়ে তার ফর্সা নরম হাতখানি মেলে ধরে। তুহিন তার বাড়িয়ে দেয়া হতে চুম্বনে সিক্ত করে দিল।
বিদায়ী চুম্বনখানি হেলেনের হাতে চিত্রময় হয়ে রইল এবং সে জানালা দিয়ে প্রস্থান করল আর হেলেনের জীবন থেকে হারিয়ে গেল।
চলবে.....
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।