আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বীরত্ব গাঁথা

আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ
ছবিটা দেখুন। যারা জানেন না তাদের কাছে মনে হবে কোন অনুষ্ঠানে ওয়েস্টার্ণ পিতাপুত্র ওয়াইন দিয়ে খুশি সেলিব্রেট করছে। বাস্তবে এরা পিতা পূত্র নয়, সহকর্মী এবং দুজনই বিখ্যাত। কেন বিখ্যাত জানেন? তারা ২০০৫ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। আজ এদের একজনের গল্প শোনাব।

তিনি ব্যারি মার্শাল (ছবিতে বামের ব্যক্তি)। ব্যারি মার্শাল (বাম) ও রবিন ওয়ারেন (ডান) প্রথম মানুষের পাকস্থলি হতে ব্যাক্টেরিয়ার অস্তিত্ব পান ১৯৭৯ সালে । এর আগে ধারনা ছিল, মানুষের পাকস্থলির অতি অম্লীয় বা এসিডিক পরিবেশে ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে না। কিন্তু তাদের এই আবিস্কারের মাধ্যমে বহুদিন পুরনো এই ধারণার পরিবর্তন হয়। তাদের খুজে পাওয়া সেই ব্যাক্টেরিয়ার নাম Helicobacter pylori।

আগে মানুষ ধারণা করত পেটের এসিডিটি, মদ, ধূমপান বা অন্য কোন কারনে হয়ত পাকস্থলিতে আলসার হয়। বিজ্ঞানী মার্শাল ও ওয়ারেন ধারনা করেন এই ব্যাক্টেরিয়াই বেশির ভাগ পেটের ক্ষয়রোগ বা আলসারের জন্য দায়ী। কিন্তু এটা প্রমান করা খুব কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কারন, বিশেষ কোন একটি ব্যাক্টেরিয়া একটি বিশেষ রোগ ঘটাতে পারে তা অবশ্যই বিজ্ঞানী কখ্‌-এর অনুসিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রমান করতে হবে। কখ্‌-এর অনুসিদ্ধান্তের তিন নম্বর পয়েন্ট অনুয়ায়ী যদি, "দায়ী ব্যাক্টেরিয়াকে যদি সুস্থ জীবে সংক্রমিত করা হয়, তবে তা ঐ সুস্থ জীবে রোগ সৃষ্টি করতে হবে"।

যদি তা না ঘটে তবে এটা প্রমান করা যাবে না ঐ ব্যাক্টেরিয়াই সেই বিশেষ রোগের কারন। অনুসিদ্ধান্তের এই পয়েন্ট প্রমান করতে গিয়ে মার্শাল ল্যাবরেটরির বিভিন্ন প্রানীতে Helicobacter pylori -এর সংক্রমন ঘটান, কিন্তু কোন সফলতা পান না। যদি অন্য কোন মানুষকে তা সংক্রমন করা হয় তবে, সেই রিপোর্ট পাবলিশ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে মানবাধিকার গ্রুপ গুলোর কারনে। মার্শাল খুব চিন্তায় পড়লেন। অবশেষে তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

এর আগে কিছু কথা বলতে হয়। Helicobacter pylori প্রায় ৫০% মানুষের পাকস্থলিতেই থাকে। অনেকেরই তেমন কোন সমস্যা হয় না তবে কিছু লোকের পাকস্থলিতে ইনফ্লামেশন ঘটে যাকে বলে গ্যাস্ট্রাইটিস (Gasteritis)। কিছু লোকের ক্ষেত্রে এই গ্যাস্ট্রাইটিসই আলসারে পরিনত হয়। মার্শাল তার পাকস্থলির এন্ডোস্কোপি (Endoscopy) করান এবং তাতে কোন সমস্যা ছিল না।

এরপর তিনি এক গ্লাস খুব ঘন Helicobacter pylori-এর কালচার (যে মাধ্যমে ব্যাক্টেরিয়াকে জন্মানো হয়) খেয়ে ফেলেন। এটা সেই সময়ের কথা যখন পেটের আলসারের কোন অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি ছিল না। তিনি যখন কালচার খাবার সিদ্ধান্ত নেন তখন ল্যাবের এক সহকর্মী তাকে চিৎকার করে বলেন, "You're crazy"। মার্শাল বলেন "Here goes" এবং কালচার খেয়ে ফেলেন। খাবার পর ব্যাক্টেরিয়ার কালচারের স্বাদ সম্পর্কে তার মতামত ছিল, "It tested like swamp water"।

কয়েক ঘণ্টাপর হতেই তার পেট মোচরাতে লাগল। এক সপ্তাহের মাঝেই বমি শুরু হল। এই সময়ে তার অস্বাভাবিক ক্লান্ত ও ক্ষুধা অনুভব হত। প্রায় দুই সপ্তাহ অন্তে মার্শাল তার পেটের বায়োপসি করান এবং সেখানে gasteritis-এর প্রমান পান। এর থেকে প্রমান হয়, Helicobacter pylori-ই পেটের গ্যাস্টাইটিস তথা আলসারের জন্য দায়ী।

সৌভাগ্য বসত, মার্শালের গ্যাস্ট্রাইটিস আলসারে পরিনত হয় নি। এই ঘটনা আশির দশকের প্রথম দিকের। ব্যারি মার্শাল তার জীবন বাজি রেখে করা এক্সপেরিমেন্টের বিশ্বব্যাপি স্বীকৃতি লাভ করেন ২০০৫ সালে নোবেল পুরস্কারের মাধ্যমে।
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.