হেথায় কিছু লিখব বলে চায় যে আমার মন, নাই বা লেখার থাকল প্রয়োজন! লিবিয়াতে ন্যাটোর একটা বৈশিষ্ট্য ছিল, পিওর মিলিটারি সাইটে তারা কোন ঘোষণা ছাড়াই বম্বিং করত, কিন্তু সিভিলিয়ান এলাকার মিলিটারি স্থাপনার উপর বোমা মারার আগে তারা লিফলেট ফেলত। যেমন রোযার মাসে একবার শোনা গেল, গাদ্দাফীর দুই ছেলে তাদের ফ্যামিলি সহ সিরতের ক্বাসর দীয়াফা রেস্ট হাউজে এসে উঠেছে। সেদিনই ন্যাটো ঐ এলাকায় কিছু লিফলেট ফেলল, যাতে ম্যাপে নেস্ট হাউজটা এবং তার আশেপাশের এলাকা লাল বৃত্ত দিয়ে ঘেরাও করে ডেঞ্জারাস এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল। এবং বলা হয়েছিল সিভিলিয়ানরা যেন ঐ এলাকা ছেড়ে চলে যায়, কারণ সেখানে বম্বিং করা হবে। ঠিকই ঐ এলাকা সম্পূর্ণ জনশূণ্য হয়ে যাওয়ার পর (গাদ্দাফীর ছেলেরাও চলে যাওয়ার পর) সেখানে বোমা মারা হয়।
অবশ্য এর ব্যতিক্রমও ছিল। অন্তত চার জায়গায় বিনা ঘোষণায় সিভিলিয়ানদের উপর বোমা মারায় প্রচুর মানুষ মারা গিয়েছিল।
লিফলেটগুলো অবশ্য সাধারণ মানুষের হাতে পড়া একটু কঠিন ছিল। কারণ যেখানে লিফলেট পড়ত, সাথে সাথে গাদ্দাফী বাহিনীর লোকেরা সেখানে গিয়ে সব লিফলেট জড়ো করে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিত, যেন সাধারণ মানুষ লিফলেটে কি লেখা আছে সেটা জানতে না পারে। কাউকে লিফলেট কুড়িয়ে নিতে দেখলেও ধমকে তার কাছ থেকে সেটা নিয়ে নেওয়া হত।
তাই অধিকাংশ লিফলেটই আমার সংগ্রহে নেই। যেই কয়টা আছে সেগুলো এখানে দিলাম।
উপরের প্রথম দুইটা লিফলেট ত্রিপলী দখল হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই সিরতে ফেলা হয়। এগুলোর উল্টো পিঠে সিরতের মানুষকে বিদ্রোহীদের সাথে মিলে গিয়ে নতুন করে লিবিয়া গড়ার আহ্বান জানানো হয়। সামনের পিঠে বড় করে লেখা আছে লিবিয়া ওয়াহদা, ওয়া শা'ব্হা ওয়াহদা।
অর্থাত্ লিবিয়া ইজ ইউনাইটেড অ্যান্ড ইটস পিপল ইজ ইউনাইটেড।
এটাতে সিরতবাসীকে এই এফএম রেডিওর সংবাদ শুনতে বলা হয়। এখানে বিদ্রোহীদের সর্বশেষ অগ্রগতির সংবাদ বলা হতো এবং ন্যাটো কোথায় কোথায় বোমা মারবে সেটাও বলা হত।
এটা ফেলা সিরত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর। প্রথম পাতায় বলা হয়েছে, তোমরা কি জান লিবিয়াতে এখন কি হচ্ছে? গাদ্দাফী সরকার এখন আর দেশ পরিচালনা করছে না।
ন্যাশনাল ট্রান্জিশনাল কাউন্সিলই এখন জাতিসংঘ সহ পুরো বিশ্ব সমর্থিত সরকার। এটাই হচ্ছে লিবিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি। বেনগাজী, মিসরাতা, তবরুক্ব, আজদাবিয়া, জিনতান, জাওইয়া, গারিয়ান, তারহুনা, গাদামেস, জিলিতন, খোম্স, জোয়ারা, ব্রেগা, রাস লানূফ, জোফরা, উদ্দান, হুন এবং সাবহা স্বাধীন হয়েছে। এবং রাজধানী ত্রিপলীও এখন এনটিসির হাতে।
আর দ্বিতীয় পাতায় আছে, যুদ্ধ বন্ধ কর এবং নতুন লিবিয়ার নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য কাজ শুরু কর।
কেন তোমরা এমন লোকের জন্য যুদ্ধ করছ, যে তার নিজের পরিবারকে নিরাপদে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে অথচ একই সাথে তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলছে? ...
আর শেষ লিফলেটটা হচ্ছে আফ্রিকান মার্সেনারীদের উদ্দ্যশ্যে ফেলা, যারা শেষ পর্যন্ত গাদ্দাফীর পক্ষে লড়ে যাচ্ছিল। নোটের ছবিটা আসলে এক দিনারের নোটের ছবি। এখানে বলা হয়েছে, এটাই হচ্ছে সেই টাকা যার লোভে তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছ, কিন্তু এই টাকা আর গাদ্দাফীর নিয়ন্ত্রণে নেই। সে নিজেই আইসিসির ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত পলাতক আসামী।
গতকাল অনেকদিন পর আকাশে হেলিকপ্টারের আওয়াজ শুনলাম।
শুনেই ন্যাটোর অ্যাপাচির কথা মনে পড়ে গেল। ভাবলাম একটা পোস্ট দিয়েই দেই ... ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।